শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় ৪৫ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার, জানুন তাঁর পরিচয়
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। প্রায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসে। তাঁর পরিচয় ও অতীতের ভূমিকা সামনে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে আবারও আগ্রহ তৈরি হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এই ঘটনায় অভিযুক্ত একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের খবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়টিকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।
৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর গ্রেপ্তার: কী জানা যাচ্ছে?
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন। ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ১৬ জুলাই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়। এরপর তাঁকে সেনা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের খবরও প্রকাশিত হয়।
কী ঘটেছিল ১৯৮১ সালের ৩০ মে?
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল সেনা কর্মকর্তার সামরিক অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। ওই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে বিচার হয়। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোজাফফর হোসেনও ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ও পলাতক ছিলেন।
কীভাবে তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়?
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর বনানীর একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার কারণে তাঁর গ্রেপ্তারকে ঘটনাটির তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন কী হবে?
তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, অতীতের সামরিক আদালতের সিদ্ধান্ত এবং বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার অবস্থা—এগুলো পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
সবশেষে বলা যায়, শিরোনামে যে ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তিনি হলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর মো. মোজাফফর হোসেন। ঘটনাটি কাল্পনিক নয়; তাঁর গ্রেপ্তারের খবর একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।