সন্তানের বিপদের মুহূর্তেও রিল তৈরিতে ব্যস্ত মা-বাবা! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেশা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
সন্তান বিপদে পড়লে মা-বাবার প্রথম কাজ হওয়ার কথা তাকে নিরাপদে রাখা, তার পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি ও রিল প্রকাশের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসছে—ক্যামেরায় মুহূর্তটি ধারণ করা কি কখনো কখনো বাস্তব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়ে যাচ্ছে?
“সন্তানের বিপদের মুহূর্তেও রিল তৈরিতে ব্যস্ত মা-বাবা!”—এমন একটি শিরোনাম মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। কারণ, একটি শিশুর নিরাপত্তা, সুস্থতা ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে অভিভাবকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা, ভিডিও বা প্রত্যক্ষ তথ্য ছাড়া সংশ্লিষ্ট মা-বাবা সত্যিই এমন আচরণ করেছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
সন্তানের নিরাপত্তা সবার আগে
শিশুরা অনেক সময় বিপদের ধরন বুঝতে পারে না। হঠাৎ দুর্ঘটনা, পানিতে পড়ে যাওয়া, আগুনের ঝুঁকি, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় থাকে না। এমন সময় বড়দের সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই কোনো পরিস্থিতিতে সন্তান বিপদে পড়লে প্রথমেই তাকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া, প্রয়োজনে জরুরি সহায়তা চাওয়া এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। ভিডিও করা, ছবি তোলা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার বিষয়টি কখনোই শিশুর নিরাপত্তার আগে আসা উচিত নয়।
রিলের জনপ্রিয়তা কি বদলে দিচ্ছে আমাদের আচরণ?
ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিল ও ছোট ভিডিও এখন বিনোদনের জনপ্রিয় মাধ্যম। অনেকেই দৈনন্দিন জীবনের আনন্দ, পারিবারিক মুহূর্ত কিংবা বিশেষ ঘটনা ভিডিও করে অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। এতে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় তখন, যখন ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতির গুরুত্ব উপেক্ষা করা হয়। কোনো ঘটনা ধারণ করার তাগিদে যদি কেউ প্রয়োজনীয় সাহায্য করতে দেরি করেন, তাহলে সেটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।