গোপালগঞ্জের পুলিশের ASP পলাশ সাহা মৃ***ত্যু****বরণ করেছে এক বছরের বেশি হয়ে গেছে ![]()
পলাশ সাহার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা তার স্বামীকে নিয়ে নিচের এই লেখাগুলো লিখেছেন—-
“
প্রিয় পলাশ,![]()
এটা কি সত্যিই মাত্র এক বছর হলো? অথচ আমার মনে হয় যেন হাজার বছর কেটে গেছে… তোমার চোখ দুটো আমায় দেখেনা, তোমার কণ্ঠ শুনিনা, তোমার স্পর্শ পাইনা… এ কেমন তৃষ্ণা আমার, বলতো?
তবে জানো… আজও আমি তোমার শরীরের ঘ্রাণ পাই। তুমি শেষবার যে পোশাকটা গায়ে জড়িয়ে রেখে গিয়েছিলে, সেই পোশাক থেকেই নিয়মিত তোমার ঘ্রাণ নেই আমি। পোশাকটা আজও ধুইনি—যতদিন বেঁচে থাকব, ধোবও না। ঘ্রাণ নেওয়া শেষ হলে খুব যত্ন করে তুলে রাখি, যেন তোমার শেষ উপস্থিতিটুকুও হারিয়ে না যায়।
আমি শুধু একটা সংসার চেয়েছিলাম। তুমি বলেছিলে অপেক্ষা করতে—আমি মেনে নিয়েছিলাম। তারপর কতবার করে একটা সন্তানের স্বপ্ন দেখেছিলাম, বিশেষ করে আমার এইচএসসি শেষ হওয়ার পর। কিন্তু তুমি অবহেলায় সেই চাওয়াটুকুও অপূর্ণ রেখেই চলে গেলে। কী এমন হতো যদি দিতে? তোমার একটা অংশ তো এই পৃথিবীর বুকেই থেকে যেত। আমাদের সন্তানকে বুকে নিয়ে হয়তো সারাটা জীবন পার করে দেওয়ার শক্তিটুকু পেয়ে যেতাম। আমি তো শুধু একটা ঘর, একটু আপন জীবন চেয়েছিলাম—তার বাইরে কিছু নয়। আমার চাওয়াটা কি সত্যিই এত বেশি ছিল? নাকি আমার অধিকারেই পড়ত না? হয়তো খুব বেশি চেয়ে ফেলেছিলাম… হয়তো এত মূল্যবান কিছু চাওয়াটা আমারই উচিত হয়নি। আমি কত বোকা ছিলাম, আমি তো তখন বুঝতেই পারিনি যে তুমি মানুষটাই আমার ছিলে না…
জানো—আমি খুব ভালো আছি। ভালো তো থাকতেই হবে, কারণ তুমিই তো বলে গেছো আমাকে ভালো থাকতে। কিন্তু বলো তো, আমি কি সত্যিই ভালো আছি? চারপাশে কিছুই থেমে নেই, জীবন নিজের মতো এগিয়ে যাচ্ছে, আমিও তাকে থামিয়ে রাখিনি। তবু এই ভালো থাকার ভেতরেও এক অদ্ভুত শূন্যতা রয়ে গেছে। তোমাকে ছাড়া ভালো থাকার অভিনয়টা ভীষণ ক্লান্ত করে দেয়।
তুমি তাড়াতাড়ি এসো না… এসে আমাকে নিয়ে যাও। এত ভালো থেকেও ভালো লাগে না তোমাকে ছাড়া। ভালো থাকার সব সংজ্ঞাই যেন তোমার কাছেই আটকে আছে।
যাই হোক, দেখতে দেখতে ১বছর পেরিয়ে গেল। তুমি যে শান্তির খোঁজে চলে গেলে—সেই শান্তি কি পেয়েছ? ভালো আছ তো? যেখানেই থাকো, ভালো থেকো কিন্তু কেমন?
আর হ্যাঁ শোনো, তোমাকে ছাড়া এত ভালো থাকতে আমার আর ভালো লাগতেছে না…. এসো এসে আমাকে নিয়ে যাও…