যু’বদল নে’/তার সঙ্গে ছা/ত্রদল নে/ত্রীর….see more

যুবদল নেতার সঙ্গে ছাত্রদল নেত্রীর সম্পর্কের অভিযোগ, স্বামীর মামলা

ফেনীতে এক যুবদল নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছেন তার স্বামী। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে আদালতে করা আবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে; এর সত্যতা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।

ঘটনাটি ফেনী সদর উপজেলার। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক চুমকি আক্তার এবং ফেনী সদর উপজেলা যুবদল নেতা গিয়াস উদ্দিন মীর। চুমকি আক্তারের স্বামী মো. আলা উদ্দিন গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফেনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭(সি) ধারায় আবেদন করেন। মামলায় চুমকি আক্তারের পাশাপাশি তৈয়ব ও গিয়াস উদ্দিন মীরকে আসামি করা হয়েছে।

স্বামীর অভিযোগ কী?

আদালতে দেওয়া আবেদনে আলা উদ্দিন অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী চুমকি আক্তারের চলাফেরা ও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ে এবং তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে আলা উদ্দিনকে তার বাসার সামনের রাস্তায় দেখতে পেয়ে তৈয়ব ও গিয়াস উদ্দিন মীর তাকে গালিগালাজ করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাকে হত্যার পর লাশ গুম করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মাদক মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে আদালতের কাছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন আলা উদ্দিন।

এর আগে আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনায় ছিলেন চুমকি

এ ঘটনার কয়েক দিন আগে চুমকি আক্তারের একটি ফেসবুক লাইভ নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বরের ওই লাইভে তিনি মহিলা দলকে নিয়ে মন্তব্য করেন, যার পর সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। একই লাইভে সাংবাদিকদের নিয়ে বক্তব্য ও হুমকির অভিযোগে কয়েকজন সাংবাদিক ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চুমকি আক্তারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ফেনী জেলা ছাত্রদল। নোটিশে তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

একই সময়ে পারিবারিক বিরোধ, আদালতে আবেদন এবং দলীয় শৃঙ্খলাজনিত বিষয় সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে ফেনীর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে ঘিরে করা অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে অভিযোগের সঙ্গে অতিরিক্ত বা অপ্রমাণিত তথ্য যুক্ত হতে পারে। আদালতে করা আবেদনের বাইরে কোনো দাবি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং আইনগত নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগের সত্যতা এখনো বিচারাধীন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আলা উদ্দিনের করা আবেদনে চুমকি আক্তার ও গিয়াস উদ্দিন মীরের বিরুদ্ধে যে সম্পর্কের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বাদীপক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগ। আদালতের প্রক্রিয়ায় অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত বা তদন্তের ফল পাওয়া গেলে তখন বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

এদিকে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য বা তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে সেটিও প্রতিবেদনে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। ফলে বর্তমানে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ছাত্রদল নেত্রীর স্বামী আদালতে আবেদন করেছেন এবং ওই আবেদনে যুবদল নেতাসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এর বাইরে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *