রাতেই ঝড় হতে পারে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে, ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপের প্রভাবে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালের মধ্যে কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
কোন কোন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা
শুক্রবার ও শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গা এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
শনিবার সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে দেশের অন্য অনেক এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
রাতের আবহাওয়ায় কী পরিবর্তন আসতে পারে
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। ফলে দিনের গরম কিছুটা কমলেও রাতের আবহাওয়া পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনই তৈরি হচ্ছে না।
আগামী কয়েক দিনেও থাকবে বৃষ্টির সম্ভাবনা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
সোমবারও রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর মঙ্গলবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
সাগরের লঘুচাপের প্রভাব
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর মিয়ানমার, দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় থাকা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর তুলনামূলক কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সতর্ক থাকার পরামর্শ
ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সময় খোলা জায়গা, নদী বা জলাশয়ে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নৌযান, কৃষক, পথচারী এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষদের আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
তবে “দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে রাতেই ঝড়”—এটি ছবির প্রচারিত শিরোনাম; আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে নির্দিষ্টভাবে দেশের সব বা অধিকাংশ এলাকায় একই সময়ে ঝড়ের কথা বলা হয়নি। বরং অঞ্চলভেদে বৃষ্টি ও দমকা/ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় ঝড় হবে কি না, তা স্থানীয় পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তার ওপর নির্ভর করবে।