শেখ হা’সিনা দেশে ফি’রে থাকবেন যমুনায়,মধ্যব’র্তী নি’/র্বাচনের দা’/বি ভারতের!… See more

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে থাকবেন যমুনায়? মামলা প্রত্যাহার ও মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে নতুন দাবি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও ভারতের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

তবে এসব দাবির পক্ষে বাংলাদেশ বা ভারতের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে যমুনায় অবস্থান, সব মামলা প্রত্যাহার কিংবা মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি—এসবকে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্ত বা চূড়ান্ত কূটনৈতিক শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বিষয়গুলো বিভিন্ন সূত্র, ভারতীয় গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের জুলাইয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে এসে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি তার জীবনের ঝুঁকিও থাকতে পারে—তবুও তিনি দেশে ফিরতে চান।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, তা জানাননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি অবস্থান ধরে রাখতে চান।

অর্থাৎ ডিসেম্বরের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি শেখ হাসিনার নিজের বক্তব্যে এসেছে। কিন্তু তিনি দেশে ফিরলে কোথায় থাকবেন, তাকে কী ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে কিংবা তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর কী হবে—এসব বিষয়ে তার বক্তব্যে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

‘যমুনায় থাকার’ দাবি কোথা থেকে এলো?

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রাখার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে প্রস্তাব বা দাবি তোলা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে এসএসএফ নিরাপত্তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই দাবির সঙ্গে কোনো সরকারি নথি বা বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। ফলে এটি বর্তমানে একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।

এদিকে আগস্টে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং—র-এর প্রধান পরাগ জৈনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছিল। ভারতীয় ও বাংলাদেশি বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে এসেছে। তবে ওই সফরে শেখ হাসিনাকে যমুনায় রাখার মতো কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিও আলোচনায়

ভাইরাল প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর আইনি অবস্থান আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। সেগুলো রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একযোগে প্রত্যাহার করা হবে—এমন কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

বরং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান আইন ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েও নানা আলোচনা

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েও বিভিন্ন মহলে বক্তব্য দেখা যাচ্ছে। কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকের বক্তব্যে ২০২৭ সালে সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এটিকে ভারতের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী দাবি হিসেবে নিশ্চিত করার মতো কোনো সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কখন হবে, কোন প্রক্রিয়ায় হবে এবং কোন দল কীভাবে অংশ নেবে—এসব বিষয় বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে শেখ হাসিনা ইস্যু

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে আছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে আসছে। ভারত বলেছে, বাংলাদেশের অনুরোধ তারা বিদ্যমান আইন ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে।

আগস্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠকেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। একই সময়ে র-এর প্রধানের ঢাকা সফর নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়।

এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য কী?

সব মিলিয়ে বর্তমানে তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

প্রথমত, শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণের অনুরোধ করেছে এবং ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করছে।

তৃতীয়ত, যমুনায় রাখা, সব মামলা প্রত্যাহার এবং ভারতের পক্ষ থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি জানানোর বিষয়গুলো বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সূত্রনির্ভর দাবি; এগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিরোনামটি আলোচনার জন্ম দিলেও, এর প্রতিটি অংশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে কোনটি সরকারি বক্তব্য আর কোনটি সূত্রনির্ভর দা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *