সংসদে তা’রেক র’হমানের ঘো’/ষণা…see more

সংসদে তারেক রহমানের ঘোষণা, জানালেন সরকারের বড় পরিকল্পনা

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটসহ সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্যের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল জ্বালানি সংকট এবং এর সমাধানে সরকারের নেওয়া তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আশ্বাস

সংসদে তারেক রহমান বলেন, দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য সরকার একাধিক তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সংকটের প্রভাব কমানো যায়, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণকে প্রকৃত অবস্থা জানানো জরুরি। সংকট নিয়ে বিভ্রান্তি বা উসকানির পরিবর্তে সরকার ও বিরোধী দল—সব পক্ষেরই বাস্তব পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল সৌরবিদ্যুৎ। তিনি জানান, সরকার এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে যার মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল থাকবে না; বরং নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াবে।

তারেক রহমানের ভাষায়, পরিকল্পনাটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ কেবল সৌরবিদ্যুতের গ্রাহক থাকবে না, বরং উৎপাদক দেশ হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বরও তিনি জানিয়েছিলেন, জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত হলে তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

বর্তমান সংকটের কারণ কী, সংসদে যা বললেন

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি ছিল।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেখান থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিতে বাধা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের দুটি এফএসআরইউর একটি দুর্ঘটনার কারণে অচল হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও বার্তা

সংসদের একই সমাপনী বক্তব্যে তারেক রহমান রাজনৈতিক বক্তব্য ও মতপ্রকাশের ধরন নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন, তবে সেই স্বাধীনতা যেন শালীনতার সীমা অতিক্রম না করে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও মতপার্থক্য গণতন্ত্রের অংশ হলেও গালাগালি বা অসৌজন্যপূর্ণ আচরণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হওয়া উচিত নয়।

সামনে সরকারের লক্ষ্য কী?

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আমদানি-নির্ভরতা কমানো এখন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করা এবং সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে।

তবে এসব পরিকল্পনার বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়ন, অর্থায়ন, জ্বালানি সরবরাহ এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতার ওপর। তাই সংসদে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কীভাবে ও কত সময়ে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সব মিলিয়ে সংসদে তারেক রহমানের বক্তব্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গুরুত্ব পেয়েছে। তবে “সংসদে নতুন বড় ঘোষণা” বলতে কোন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে বোঝানো হচ্ছে, তা শিরোনামটিতে স্পষ্ট নয়; উপরের বিষয়গুলোই সাম্প্রতিক সংসদীয় বক্তব্যে নিশ্চিতভাবে পাওয়া যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *