অবশেষে মেজর আখতারুজ্জামানকে আদালত থেকে এক দিনের রিমান্ড
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিমানবন্দর থানায় করা মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আদালতের কাছে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন আংশিক মঞ্জুর করে এক দিনের রিমান্ড দেন।
যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সময় বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছিল বলে মামলার বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের সঙ্গে বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে সরকারি কাজে বাধা এবং একজন নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও মামলায় আনা হয়।
তবে এগুলো মামলার অভিযোগ—আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।
পুলিশের রিমান্ড আবেদন
আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে পুলিশ আদালতের কাছে আবেদন করে।
অন্যদিকে, শুনানিতে তার আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করেন এবং তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন পুরোপুরি মঞ্জুর না করে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিমানবন্দরের ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি পাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির বিভিন্ন অংশ নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য ও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও আলোচনায় আসে।
আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তারের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়েও মন্তব্য করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে তার বক্তব্য এবং মামলার অভিযোগ—দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এখন কী হবে?
আদালতের এক দিনের রিমান্ডের আদেশ অনুযায়ী পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এরপর রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রিমান্ড শেষে তার জামিন, কারাগারে পাঠানো কিংবা অন্য কোনো আইনি সিদ্ধান্ত আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করবে।
ইতোমধ্যে ৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এক দিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে আবার আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেছেন।
সব মিলিয়ে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা মামলায় সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত শুনানি শেষে এক দিনের রিমান্ড দেন। এখন মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আদালতীয় কার্যক্রমেই নির্ধারিত হবে ঘটনাটির পরবর্তী গতিপথ।