অ’তিরি’ক্ত বি-দ্যু-তে-র বিল নিয়ে তা’রেক র’হমান জানায়…see more

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তারেক রহমানের অবস্থান, গ্রাহকদের অভিযোগের পর যা জানা গেল

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের জুন মাসের বিল হাতে পাওয়ার পর অনেক গ্রাহক আগের মাসের তুলনায় বেশি বিল আসার অভিযোগ করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি সরকারের নজরেও আসে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুন মাসের বিল নিয়ে পাওয়া অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিতরণ সংস্থাগুলোকে অভিযোগ যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছিলেন বলে বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জুন ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নতুন ট্যারিফ কার্যকর হয়। পাশাপাশি গরমের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর সঙ্গে ঈদুল আজহা, কম বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন কারণে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক গ্রাহকের বিল আগের তুলনায় বেশি হয়েছে বলে জানানো হয়।

তবে সব অভিযোগকে শুধু বেশি ব্যবহারের কারণে হয়েছে বলে দেখানো হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগ কিছু ক্ষেত্রে দাপ্তরিক বা ক্লারিক্যাল ভুলের কথাও স্বীকার করেছে। এসব অভিযোগ যাচাই করে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বিতরণ কোম্পানিগুলো অধিকাংশ অভিযোগের সমাধান করেছে বলেও বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানের নামে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে তাকে মিটার ভাড়া, সার্ভিস চার্জ ও ডিমান্ড চার্জ বন্ধের বিষয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে সেটিকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ভিডিও হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া ‘বিদ্যুৎ চাই, গ্যাস চাই, আবার বিল কম চাই—এটা সম্ভব নয়’—এমন একটি বক্তব্যও তারেক রহমানের নামে প্রচার করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে ওই বক্তব্যকে মিথ্যা বলে শনাক্ত করেছে; কথিত বক্তব্যটি একটি স্যাটায়ার পেজ থেকে ছড়িয়েছিল।

অন্যদিকে অতিরিক্ত বিল নিয়ে কোনো গ্রাহকের প্রকৃত অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করার কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ কোনো গ্রাহকের বিল অস্বাভাবিক মনে হলে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট না করে বিলের কাগজপত্র ও মিটারের তথ্যসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মানুষের যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সেটি সরকারের নজরে এসেছে এবং অভিযোগ যাচাই ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানের নামে ছড়িয়ে পড়া সব বক্তব্যকে তার প্রকৃত বক্তব্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে এআই-নির্মিত ভিডিও ও সম্পাদিত ফটোকার্ডের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শই প্রাসঙ্গিক।

তাই ‘অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তারেক রহমান গণমাধ্যমকে ঠিক কী বলেছেন’—এমন কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রচারের আগে মূল সরকারি বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র যাচাই করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *