স্বামীর বন্ধুকে ৩ দিন ৩ রাত বাসায় রেখে খাওয়ানোর পর জানতে পারলেন, বন্ধুই স্বামীর সঙ্গে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে!
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল পোস্টে বলা হচ্ছে, এক নারী তার স্বামীর এক বন্ধুকে কয়েক দিন ধরে নিজের বাড়িতে অতিথি হিসেবে রাখেন। স্বামীর পরিচিত ও বন্ধু হওয়ায় ওই ব্যক্তিকে নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো সন্দেহ করা হয়নি। বরং অতিথি হিসেবে তাকে যথাসম্ভব আপ্যায়ন করা হয়।
ভাইরাল দাবিতে বলা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি টানা তিন দিন তিন রাত তাদের বাসায় অবস্থান করেন। এ সময় তাকে নিয়মিত খাবার পরিবেশন করা হয় এবং পরিবারের একজন সদস্যের মতোই আতিথেয়তা করা হয়। স্বামীর বন্ধু হওয়ায় ওই নারীও বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
কিন্তু কয়েক দিন পর কথিত ওই বন্ধুকে ঘিরেই নাকি সামনে আসে অপ্রত্যাশিত একটি তথ্য। এরপর পরিবারের মধ্যে তৈরি হয় সন্দেহ ও উত্তেজনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলোতে ঘটনাটিকে নানা রকম নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হলেও, ঠিক কী ঘটেছিল বা ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছিল—সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে একই ধরনের কিছু পুরোনো অপরাধের ঘটনা পাওয়া গেলেও, সেগুলোর সঙ্গে এই ভাইরাল দাবির সরাসরি মিল পাওয়া যায়নি। উদাহরণ হিসেবে, ২০২০ সালে ঢাকার দক্ষিণখানে এক ব্যক্তিকে তার ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধু বাসায় ডেকে হত্যার একটি ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা এবং বর্তমান ভাইরাল দাবির প্রমাণ হিসেবে সেটিকে ব্যবহার করা যাবে না।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘স্বামীর বন্ধুকে তিন দিন তিন রাত বাসায় রেখে খাওয়ানোর পর ভয়ংকর সত্য জানতে পারলেন’—এ ধরনের শিরোনাম দেখে অনেকেই ঘটনাটিকে সত্য বলে ধরে নিচ্ছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট ঘটনার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও অনেক সময় মূল ঘটনার সঙ্গে অতিরঞ্জিত তথ্য, বানানো সংলাপ কিংবা কাল্পনিক অংশ যোগ করে তা ভাইরাল করা হয়। তাই কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা চরিত্র নিয়ে নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও ঠিক নয়।
সুতরাং, ‘স্বামীর বন্ধুকে তিন দিন তিন রাত বাসায় রেখে খাওয়ানোর পর এমন ঘটনা জানতে পারলেন’—দাবিটি আপাতত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অযাচাই তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। নির্ভরযোগ্য সূত্র বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তবেই ঘটনার প্রকৃত সত্য নিশ্চিত করা সম্ভব।