চো’/র স’ন্দেহে বাবাকে করা হলো মা’/রধা’/র৷ মে’য়ে এগিয়ে আসলো বাবার রাছে…see more

চোর সন্দেহে বাবাকে করা হলো মারধার৷ মেয়ে এগিয়ে আসলো বাবার রাছে৷ সে ভাইরাল তুবা এখন স্কুলে যাবে৷

একটা শিশুর জীবন বদলে দিতে সবসময় বড় কোনো আয়োজন লাগে না। কখনো কখনো একজন বড় মানুষের ছোট্ট একটা উদ্যোগই যথেষ্ট।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সুজা ঠিক তেমনই একটি কাজ করেছেন।

কিছুদিন আগে উজিরপুরে চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে বেঁধে রাখার একটি ঘটনা সামনে এসেছিল। পাশে ছিল তার ছোট্ট মেয়ে তুবা। বাবাকে চা আর বনরুটি খাওয়ানোর সেই দৃশ্যটা নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে।

একজন শিশুর বাবা কোনো ঘটনায় অভিযুক্ত হলেই সেই ঘটনার দায় শিশুটার ঘাড়ে বর্তায় না। কিন্তু সমাজ সবসময় এতটা উদার হয় না। স্কুলে সহপাঠীদের কটূক্তি, হাসাহাসি, অপমান কিংবা ‘চোরের মেয়ে’ ধরনের একটা পরিচয় একটা শিশুর আত্মবিশ্বাসকে খুব সহজেই ভেঙে দিতে পারে।

আর তুবা তো আর কোনো অপরাধ করেনি। সে শুধু তার বাবার পাশে দাঁড়িয়েছিল। এই জায়গাটাতেই মোহাম্মদ আলী সুজা সাহেবের উদ্যোগটা অসাধারণ।

তিনি তুবাকে নিজে স্কুলে নিয়ে গেছেন। সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বুঝিয়েছেন তুবা অন্য সবার মতোই একজন শিক্ষার্থী, একজন বন্ধু। তার বাবাকে ঘিরে যা ঘটেছে, তার দায় তুবার নয়। তাই তুবাকে আলাদা করে দেখারও কোনো কারণ নেই।

তুবাকে হয়তো তিনি শুধু স্কুলে নিয়ে গেছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি তাকে একটা সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি অপমান, বুলিং আর সামাজিক বঞ্চনা থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন।

আমাদের সমাজে এমন সংবেদনশীলতা খুব বেশি দরকার। অপরাধ যার, দায়ও তার। কোনো শিশুকে তার বাবা-মায়ের পরিচয় দিয়ে বিচার করা নয় এই বোধটা আমাদের বড়দের পাশাপাশি শিশুদেরও শেখাতে হবে।

মোহাম্মদ আলী সুজা সাহেব, তুবার জন্য আপনি যে কাজটি করেছেন এটা হয়তো আপনার কাছে একটি ছোট উদ্যোগ। কিন্তু তুবার জীবনে এর প্রভাব হয়তো অনেক বড় হবে।

আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ❤️

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *