এই যে সার্জেন্ট আপুকে দেখছেন, তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। সরকার তাকে তার চেহারা দেখে সার্জেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়নি; তার যোগ্যতা, পরীক্ষা ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাহলে আপনার কী যোগ্যতা আছে তার চেহারা নিয়ে সমালোচনা করার?
নিউজফিড স্ক্রোল করতে করতে ভিডিওটা সামনে আসলো। সার্জেন্ট আপু একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। ভিডিওটা দেখে কমেন্ট সেকশনে গিয়ে সত্যি বলতে অবাক হয়ে গেলাম!
উনি যে বিষয় নিয়ে কথা বলছেন, কমেন্টগুলোর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কই নেই। সবাই পড়ে আছে একজন নারী সার্জেন্টের চেহারা নিয়ে!
কেউ বলছে, চেহারা খারাপ—মানে নেশা করে।
কেউ বলছে, দাঁত উঁচু—মানে ব্রাশ করে না।
আবার কেউ বলছে, এই চেহারায় আবার সানগ্লাস!
আরে ভাই, উনি একজন সার্জেন্ট। উনার কাজ দায়িত্ব পালন করা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা, রাস্তায় মানুষের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। উনি মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসেননি, মডেলিং করতে আসেননি, সিনেমার নায়িকা হতেও আসেননি।
উনাকে তার যোগ্যতার ভিত্তিতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, চেহারা দেখে নয়। আর চেহারা নিয়ে কথা বলার আগে নিজের চেহারাটা আয়নায় একবার দেখে নিন।
একজন সার্জেন্ট দিনের পর দিন রাস্তায় দায়িত্ব পালন করেন। রোদে পুড়েন, বৃষ্টিতে ভেজেন, ধুলাবালি সহ্য করেন। সারাদিন বাইরে দায়িত্ব পালন করা একজন মানুষের চেহারা ঘরের কোণে বসে সাজুগুজু করা বা পার্লার থেকে বের হওয়া মানুষের মতো থাকবে৷ এমন তো কোনো কথা নেই!
সবচেয়ে বড় কথা, চেহারা কেউ নিজের হাতে বানায় না। মানুষ নিজের গায়ের রং, নাক, দাঁত, চোখ কিংবা মুখের আকৃতি নিজের ইচ্ছেমতো তৈরি করে পৃথিবীতে আসে না।
মানে ২০২৬ সাল শেষের দিকে৷ তাও এরা পড়ে আছে এসব নিয়ে৷ কি বলবো আসলে ![]()