রুহুল কবির রিজভী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’র অন্যতম সদস্য। সম্প্রতি তিনি পেয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই প্রবীণ রাজনীতিক গত শতাব্দীর আশির দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি হিসেবে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কালবেলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপি ও সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম, দলের করণীয়, চ্যালেঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। গত রোববার সকালে তার সরকারি বাসভবনে বসে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কালবেলার বিশেষ প্রতিনিধি ও উপপ্রধান প্রতিবেদক শফিকুল ইসলাম।
কালবেলা: দুর্দিনের কান্ডারি থেকে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হয়েছেন। পদে নতুন হলেও দলে তো পুরোনো। নতুন দায়িত্বে কেমন লাগছে?
রুহুল কবির রিজভী: আমি আগেও বলেছি যে, আমি যেহেতু দীর্ঘদিন ধরেই দল করি, সে ক্ষেত্রে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারব। তবে দায়িত্ব পরিচালনা বা পালন করা ওই অর্থে পারব না—এটা বলব না। মনের মধ্যে একটা ভয়ও কাজ করে যে, আমি ঠিকমতো পারব তো সবাইকে নিয়ে দলটাকে ধরে রাখতে? এই প্রশ্ন আমার মনের মধ্যে আসে এবং এই প্রশ্ন আসে বলেই আমার সিনসিয়ারিটি এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকা এবং আগ্রহ তৈরি হয়। আমি মনে করি, যেহেতু আমার মনের মধ্যে এ বোধটা আছে সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয় যে, এই দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করতে পারব বলে আশা রাখি। নিশ্চিত করে বলতে পারব না, তবে আশা রাখি।
কালবেলা: বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? নির্বাচনি অঙ্গীকার কতটুকু পূরণ হলো?
রুহুল কবির রিজভী: নির্বাচনি অঙ্গীকার তো পাঁচ বছরের জন্য। সেক্ষেত্রে ছয় মাসে অঙ্গীকারের যতটুকু বাস্তবায়ন করা যায়, সেটা প্রায় হয়েছে। অর্থাৎ ছয় মাসকে যদি আমরা ভাগ করে দেখি, এর মধ্যে আমি বলব, বেশিরভাগ লক্ষ্য অর্জন হয়েছে। কোনো কোনো সেক্টরে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। যেমন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। এরকম অনেক ক্ষেত্র আছে, যে ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে বা কাছাকাছি ছুঁইছুঁই অবস্থায় গেছে। একটা নতুন সরকারের জন্য আমি মনে করি এটা একটা বড় অর্জন।
কালবেলা: নতুন দায়িত্বে সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে হয়?