এই পুরস্কার অন্য কারও পাওনা ছিল, কেন বললেন ইয়ামাল?
নিজের হাতে পুরস্কার উঠলেও সতীর্থকে ভুললেন না বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে টানা তৃতীয়বারের মতো কোপা ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। কিন্তু পুরস্কার গ্রহণের পর তাঁর বক্তব্য ফুটবলবিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইয়ামাল মনে করেন, এই পুরস্কারটি তাঁর বার্সেলোনা ও স্পেনের সতীর্থ পাও কুবারসির পাওয়া উচিত ছিল।
পুরস্কার জিতেও সতীর্থের প্রশংসায় ইয়ামাল
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সেখানে বিশ্বের সেরা অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলারের স্বীকৃতি হিসেবে কোপা ট্রফি হাতে তুলে নেন ইয়ামাল।
পুরস্কার গ্রহণের পর তিনি জানান, সতীর্থ কুবারসিকে মঞ্চে দেখতে পারলে তাঁর ভালো লাগত। ইয়ামালের মতে, কুবারসি দীর্ঘদিন ধরে অসাধারণ মানের ফুটবল খেলছেন এবং এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা তাঁরও ছিল।
নিজের অর্জন নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি সতীর্থের অবদানকে এভাবে স্বীকৃতি দেওয়ায় ইয়ামালের বক্তব্য বিশেষভাবে নজর কাড়ে।
কেন কুবারসিকে এগিয়ে রাখলেন ইয়ামাল?
বার্সেলোনার হয়ে ইয়ামাল মূলত আক্রমণভাগে নিজের গতি, ড্রিবলিং, গোল এবং গোল করানোর দক্ষতা দিয়ে পরিচিত। অন্যদিকে পাও কুবারসি একজন ডিফেন্ডার। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো, পাসের মাধ্যমে খেলা গড়ে তোলা এবং রক্ষণভাগে স্থিরতা বজায় রাখাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব।
ফুটবলে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের গোল ও অ্যাসিস্ট সহজেই আলোচনায় আসে। কিন্তু একজন ডিফেন্ডারের অবদান অনেক সময় পরিসংখ্যানের চেয়ে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বেশি স্পষ্ট হয়।
কুবারসির খেলার মান ও ধারাবাহিকতার প্রশংসা করেই ইয়ামাল বলেছেন, তাঁর সতীর্থ এই সম্মানের যোগ্য ছিলেন। তবে এটি ইয়ামালের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন; পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক ফলাফলে ইয়ামালই বিজয়ী হয়েছেন।
টানা তিনবার কোপা ট্রফি জিতে ইতিহাস
কোপা ট্রফি জয় ইয়ামালের জন্য নতুন কিছু নয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পর ২০২৬ সালেও এই পুরস্কার জিতে তিনি টানা তিনবার সেরা তরুণ ফুটবলারের স্বীকৃতি পেলেন।
এমন ধারাবাহিক সাফল্য তাঁর অসাধারণ প্রতিভা ও অল্প বয়সে ফুটবলে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি সামনে এনেছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
ইয়ামালের বক্তব্যে ফুটে উঠল সতীর্থের প্রতি সম্মান
একজন খেলোয়াড় যখন ব্যক্তিগত পুরস্কার পান, তখন সাধারণত নিজের পরিশ্রম, দল ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইয়ামালও তাঁর ক্লাব ও জাতীয় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি কুবারসির অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলের অন্য খেলোয়াড়দের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবল একটি দলীয় খেলা, যেখানে একজনের সাফল্যের পেছনে সতীর্থদের ভূমিকা থাকে।
কুবারসি পুরস্কারটি জিততে না পারলেও ইয়ামালের কাছ থেকে এমন প্রকাশ্য প্রশংসা পাওয়া তাঁর পারফরম্যান্সের প্রতি সম্মানেরই প্রকাশ।
ব্যালন ডি’অরেও ছিল ইয়ামালের বড় প্রত্যাশা
কোপা ট্রফি জেতার পাশাপাশি ইয়ামাল ২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অর পুরস্কারেরও অন্যতম আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তবে মূল পুরস্কার জিতেছেন ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। কিলিয়ান এমবাপ্পে দ্বিতীয় এবং ইয়ামাল তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
অর্থাৎ, ইয়ামালের জন্য রাতটি একদিকে ছিল ব্যক্তিগত সাফল্যের, অন্যদিকে ছিল সতীর্থের প্রতি সম্মান জানানোর। মূল ব্যালন ডি’অর না জিতলেও তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি।
শেষ কথা
লামিনে ইয়ামালের এই বক্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের সামনে একটি সুন্দর বার্তা তুলে ধরেছে—ব্যক্তিগত পুরস্কার জেতার আনন্দের মধ্যেও সতীর্থের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া যায়। টানা তৃতীয়বার কোপা ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়ার পরও পাও কুবারসির প্রশংসা করে ইয়ামাল দেখিয়েছেন, তাঁর কাছে দলীয় সাফল্য ও সহখেলোয়াড়ের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ।
পুরস্কারটি শেষ পর্যন্ত ইয়ামালের হাতেই উঠেছে, কিন্তু তাঁর বক্তব্যে আলোচনায় এসেছেন পাও কুবারসিও।