নতুন করে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করল সরকার, ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে লাগবে কত টাকা?
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও আলোচনায় এসেছে। রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অক্টোবর মাসের জন্য ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর ঘোষণা করা এই নতুন মূল্য ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়। <Cite refs={[“turn258329search2″,”turn258329search5”]}/>
তবে ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অনুসন্ধানে নভেম্বর মাসের নতুন মূল্য ঘোষণা হয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ১ হাজার ৮৩৭ টাকাকে অক্টোবর মাসের ঘোষিত সরকারি নির্ধারিত দাম হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে; পরবর্তী কোনো মূল্য পরিবর্তনের ঘোষণা এলে সেটি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কত বেড়েছে?
বিইআরসির ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অক্টোবর মাসে তা ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সিলিন্ডারপ্রতি খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। <Cite refs={[“turn258329search1″,”turn258329search2”]}/>
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে যেসব পরিবার রান্নার কাজে নিয়মিত এলপিজি ব্যবহার করে, তাদের মাসিক বাজেটে বাড়তি চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে সিলিন্ডারের ব্যবহার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।
কেন বাড়ানো হয়েছে এলপিজির দাম?
বিইআরসি আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও আমদানি-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাধারণত প্রতি মাসে বেসরকারি এলপিজির খুচরা মূল্য সমন্বয় করে। অক্টোবরের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের চুক্তিমূল্য, পরিবহন ব্যয়, ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম এবং ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। <Cite refs={[“turn258329search2″,”turn258329search4”]}/>
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই দেশের বাজারে প্রতিটি দোকানে একই দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সরবরাহ পরিস্থিতি, পরিবহন ব্যয় এবং খুচরা বিক্রেতার আচরণের কারণে বাস্তবে ক্রেতাদের অভিজ্ঞতায় পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
অন্যান্য সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে
অক্টোবরের ঘোষণায় বিভিন্ন ওজনের সিলিন্ডারের দামও সমন্বয় করা হয়েছিল। ঘোষিত খুচরা মূল্য অনুযায়ী—
- ৫.৫ কেজি সিলিন্ডার: ৮৪২ টাকা
- ১২ কেজি সিলিন্ডার: ১,৮৩৭ টাকা
- ১২.৫ কেজি সিলিন্ডার: ১,৯১৩ টাকা
- ১৫ কেজি সিলিন্ডার: ২,২৯৬ টাকা
- ১৬ কেজি সিলিন্ডার: ২,৪৪৯ টাকা
- ২০ কেজি সিলিন্ডার: ৩,০৬১ টাকা
- ২৫ কেজি সিলিন্ডার: ৩,৮২৭ টাকা
- ৪৫ কেজি সিলিন্ডার: ৬,৮৮৮ টাকা। <Cite refs={[“turn258329search0″,”turn258329search5”]}/>
এ ছাড়া যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়ে প্রতি লিটার ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। <Cite refs={[“turn258329search5″,”turn258329search7”]}/>
নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হলে কী করবেন?
সরকারি নির্ধারিত মূল্য ও বাজারে বাস্তবে নেওয়া দামের মধ্যে পার্থক্য থাকলে ক্রেতাদের সতর্ক থাকা উচিত। সিলিন্ডার কেনার সময় বিক্রেতার কাছ থেকে মূল্য নিশ্চিত করা, রসিদ সংগ্রহ করা এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে।
এখানে মনে রাখা জরুরি, ঘোষিত মূল্যটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রযোজ্য। নতুন মাসে বিইআরসি নতুন দর ঘোষণা করলে আগের মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে।
শেষ কথা
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের অক্টোবর মাসের ঘোষিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা—যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় ২৫২ টাকা বেশি। তবে নভেম্বর মাসের নতুন দর ঘোষণা হয়েছে কি না, তা কেনার আগে বিইআরসির সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে যাচাই করে নেওয়া ভালো।