পচা মিষ্টির সিরা দিয়ে তৈরি হচ্ছে শিশুদের খাবার! নামিদামি কোম্পানির নকল প্যাকেটে বাজারজাত, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা
শিশুদের জন্য বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, চকলেট, জেলি ও মুখরোচক খাবার কিনে থাকেন অভিভাবকেরা। অনেক সময় প্যাকেটের গায়ে পরিচিত কোম্পানির নাম ও আকর্ষণীয় মোড়ক দেখে অভিভাবকেরা নিশ্চিন্তে এসব খাবার শিশুদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু সেই খাবার তৈরির পেছনে যদি থাকে পচা মিষ্টির সিরা, নিম্নমানের কাঁচামাল এবং নকল প্যাকেট ব্যবহারের মতো ভয়াবহ অনিয়ম, তাহলে বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।
অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু চক্র পচা ও ফেলে দেওয়া মিষ্টির সিরা সংগ্রহ করে তা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শিশুদের খাবার তৈরি করছে। এসব খাবার তৈরির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, তৈরি করা পণ্যগুলো বিভিন্ন পরিচিত কোম্পানির ব্র্যান্ডের আদলে নকল প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করার অভিযোগ রয়েছে।
নকল প্যাকেটের আড়ালে প্রতারণা
সাধারণত শিশুরা খাবারের স্বাদ ও প্যাকেটের আকর্ষণীয় রং দেখে পণ্য পছন্দ করে। অন্যদিকে অভিভাবকেরা পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম দেখে পণ্যের মান সম্পর্কে ধারণা করেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নকল প্যাকেটে নিম্নমানের খাবার বিক্রি করা হলে ক্রেতাদের পক্ষে প্রকৃত পণ্য ও নকল পণ্যের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে ছোট দোকান, রাস্তার পাশের খাবারের দোকান এবং বিভিন্ন খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে এসব পণ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
পচা বা নষ্ট কাঁচামাল দিয়ে তৈরি খাবার খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া, পেটের সমস্যা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। খাবারে ক্ষতিকর জীবাণু বা দূষণ থাকলে শিশুদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে। কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম এবং তাদের শরীর খাদ্যদূষণের প্রভাবে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।
তবে নির্দিষ্ট কোনো খাবারে কী ধরনের দূষণ রয়েছে, তা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
প্রশাসনের নজরদারি ও তদন্তের দাবি
এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট কারখানা, কাঁচামালের উৎস, উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং বাজারজাতকরণব্যবস্থা তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে নকল ব্র্যান্ডের প্যাকেট কোথায় তৈরি হচ্ছে এবং কারা এসব পণ্য বাজারে সরবরাহ করছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত অভিযান, নমুনা পরীক্ষা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
শিশুদের খাবার নিয়ে কোনো ধরনের প্রতারণা বা অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। তাই অভিভাবকদেরও অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হওয়া, সন্দেহজনক মোড়ক কিংবা উৎপাদন ও মেয়াদসংক্রান্ত তথ্যবিহীন খাবার কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যায়—শিশুদের মুখের খাবারেও যদি এমন প্রতারণার অভিযোগ ওঠে, তাহলে নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?