যেসব এলাকায় প’র্যায়ক্রমে এক সপ্তাহ বি’দ্যুৎ শাটডাউন থাকবে….see more

যেসব এলাকায় পর্যায়ক্রমে এক সপ্তাহ বিদ্যুৎ শাটডাউন থাকবে

সঞ্চালন লাইনের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নকাজকে কেন্দ্র করে দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ শাটডাউনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ঘোষিত একটি পরিকল্পিত শাটডাউন ছিল এবং পরে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার কারণে প্রাথমিক সময়সূচি স্থগিত করা হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো পোস্ট নতুন করে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে বর্তমান সময়ের বিদ্যুৎ বন্ধের ঘোষণা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

কোথায় বিদ্যুৎ শাটডাউনের কথা ছিল?

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর ‘পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংথেনিং (জি-টু-জি)’ প্রকল্পের নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে রংপুর-কুড়িগ্রাম, রংপুর-লালমনিরহাট এবং রংপুর-তারাগঞ্জ ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনে পর্যায়ক্রমে শাটডাউন দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত রংপুর-কুড়িগ্রাম ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন শাটডাউনে রাখার কথা ছিল। এর ফলে কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় আংশিক লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানানো হয়েছিল।

কেন এই শাটডাউন?

বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখার কারণে নয়, বরং সঞ্চালন অবকাঠামোর উন্নয়নকাজ নিরাপদে করার জন্য এই শাটডাউনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

পিজিসিবির প্রকল্পের আওতায় সঞ্চালন লাইনে বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ ও আধুনিকায়নকাজ করার প্রয়োজন ছিল। কাজের সময় নির্দিষ্ট সঞ্চালন লাইন বন্ধ রাখতে হয়, যাতে প্রকৌশলী ও কর্মীরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহের সুযোগ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করার কথাও জানানো হয়েছিল।

এক সপ্তাহ কি পুরোপুরি বিদ্যুৎ থাকবে না?

না। এখানে ‘শাটডাউন’ বা ‘লোডশেডিং’ বলতে পুরো জেলার সব এলাকায় একটানা ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে—এমনটা বোঝায় না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিকল্প সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা অনুযায়ী সীমিত আকারে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখার চেষ্টা করা হবে। ফলে এলাকাভেদে এবং সময়ভেদে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

পরে কেন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়?

পরিকল্পিত শাটডাউনের সময়েই চলছিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি হলে শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের অসুবিধা হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

এ কারণে ২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত শাটডাউন আপাতত স্থগিত করা হয়। নেসকোর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, এইচএসসি পরীক্ষা বিবেচনায় নিয়ে ৭ আগস্ট পর্যন্ত উন্নয়নকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। এরপর ৮ আগস্ট থেকে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করা হতে পারে এবং তখন প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং হতে পারে।

কারা বেশি প্রভাবিত হওয়ার কথা ছিল?

এই পরিকল্পিত কাজের কারণে মূলত নেসকো এবং কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা ছিল।

বিশেষ করে কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা জানানো হয়েছিল। তবে কোন এলাকায় ঠিক কত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, তা একইভাবে প্রযোজ্য ছিল না; সংশ্লিষ্ট ফিডার ও বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বিষয়টি নির্ভর করত।

গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিদ্যুৎ শাটডাউন সংক্রান্ত কোনো পুরোনো পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হলে তার তারিখ অবশ্যই দেখে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ বা সঞ্চালনকাজের সময়সূচি পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন, স্থগিত বা পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে কুড়িগ্রামকে ঘিরে যে সাত দিনের শাটডাউনের খবর প্রকাশিত হয়েছিল, সেটিও পরে এইচএসসি পরীক্ষার কারণে স্থগিত করা হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, ছবিতে থাকা ‘যেসব এলাকায় পর্যায়ক্রমে এক সপ্তাহ বিদ্যুৎ শাটডাউন থাকবে’ শিরোনামটি মূলত কুড়িগ্রামকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত পরিকল্পিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন কাজের খবর। এটি বর্তমানে সারা দেশের জন্য নতুন কোনো এক সপ্তাহের বিদ্যুৎ বন্ধের ঘোষণা নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *