শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রুমিন ফারহানা জানালেন, দেশে ফিরলে কী হবে?
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক চাইলে যেকোনো সময় দেশ ছাড়তে পারেন এবং আবার যেকোনো সময় দেশে ফিরতেও পারেন। তবে দেশে ফেরার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, সেটি সরকারের বিষয়।
তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঠিক কী বলেছেন রুমিন ফারহানা?
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেলে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে রুমিন ফারহানার কাছে জানতে চান।
জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক যেকোনো সময় দেশ ছাড়তে পারেন এবং যেকোনো সময় দেশে ঢুকতেও পারেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে সংবিধানে অধিকার রয়েছে। তবে কেউ দেশে ফেরার পর সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।
অর্থাৎ রুমিন ফারহানার বক্তব্যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন—এমন কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। বরং তিনি দেশে ফেরার নাগরিক অধিকার এবং দেশে ফেরার পর সরকারের করণীয়—এই দুই বিষয় আলাদা করে দেখেছেন।
তাহলে কি শেখ হাসিনা শিগগিরই দেশে ফিরছেন?
রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি কোনো নির্দিষ্ট তারিখ, বিমানবন্দর, সফর পরিকল্পনা কিংবা দেশে ফেরার প্রক্রিয়া ঘোষণা করেননি।
এর আগে ৬ জুলাই ২০২৬ রুমিন ফারহানা বলেছিলেন, আইনগতভাবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বাধা নেই এবং দেশে ফিরে তাকে স্বাভাবিক ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে—এমন বক্তব্যও তিনি দিয়েছিলেন।
ফলে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে মূলত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আইনি ও সাংবিধানিক দিক নিয়ে একটি মন্তব্য হিসেবে দেখা যায়।
দেশে ফেরার পর সরকারের ভূমিকা কী হবে?
রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—শেখ হাসিনা দেশে প্রবেশ করার পর সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, সেটি সরকারের বিষয়।
অর্থাৎ দেশে প্রবেশের অধিকার এবং দেশে প্রবেশের পর কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান আইনগত প্রক্রিয়া—দুটি আলাদা বিষয়। কারও দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা, আদালতের আদেশ বা অন্য কোনো আইনগত বিষয় থাকলে সেগুলো সংশ্লিষ্ট আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তাই রুমিন ফারহানার বক্তব্য থেকে এমন কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই তার বিরুদ্ধে থাকা সব আইনি বিষয় শেষ হয়ে যাবে।
শেখ হাসিনার ফেরার বিষয়টি কেন এত আলোচিত?
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর থেকেই তার সম্ভাব্য দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি আলোচিত বিষয় হয়ে আছে।
২০২৬ সালে বিভিন্ন সময়ে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ কারণে কোনো রাজনীতিক শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মন্তব্য করলেই তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।
তবে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির বক্তব্য এবং শেখ হাসিনার নিজের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত—দুটি একই বিষয় নয়। তাই রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে তার নিজের মন্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য নিয়েও বক্তব্য
একই অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানাকে তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রতিবাদ ও তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুমকি নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকবে এবং মিছিল-মিটিং ও রাজনৈতিক প্রতিবাদ হওয়া স্বাভাবিক।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে দেওয়া রুমিন ফারহানার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
নতুন করে কী বার্তা পাওয়া গেল?
রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যে মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত, তিনি মনে করেন বাংলাদেশের একজন নাগরিকের দেশ ছেড়ে যাওয়া এবং দেশে ফিরে আসার অধিকার রয়েছে। দ্বিতীয়ত, দেশে ফেরার পর সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটি সরকারের বিষয়।
তবে তার বক্তব্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি ‘রুমিন ফারহানা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার তারিখ ঘোষণা করেছেন’ বা ‘শেখ হাসিনার ফেরার সবুজ সংকেত দিয়েছেন’—এ ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটিকে তার বক্তব্যের সরাসরি অর্থ হিসেবে না দেখে মূল বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তার বক্তব্যে নির্দিষ্ট ফেরার তারিখ বা আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা নেই। তিনি মূলত বলেছেন, কোনো নাগরিক দেশে ফিরতে পারেন, কিন্তু দেশে ফেরার পর সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়।