তারেক রহমান অবশেষে গণমাধ্যমকে জানালেন, ড. ইউনূস বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি—ভাইরাল দাবির নেপথ্যে কী?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাকি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। দাবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে অনুসন্ধানে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি যে তারেক রহমান সম্প্রতি গণমাধ্যমের সামনে ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন।
এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় একই ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার অনুসন্ধান করে জানায়, তারেক রহমান ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেননি। এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যপ্রমাণও পাওয়া যায়নি।
এদিকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছিল। সেই সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ কয়েকজনের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনায় আসে। তবে সেগুলো ছিল রাজনৈতিক আলোচনা ও সম্ভাবনা—তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করার প্রমাণ নয়।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব নেওয়ার তথ্য সরকারি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রকাশিত প্রেস রিলিজেও পাওয়া যায়। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘তারেক রহমান ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন’—এ ধরনের পোস্টকে আপাতত ভাইরাল দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে নয়। পুরোনো বা সম্পাদিত ফটোকার্ড, ভিডিওর শিরোনাম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে বিষয়টি সত্য ধরে নেওয়ার আগে মূল উৎস যাচাই করা জরুরি।
সুতরাং, ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন তারেক রহমান—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে প্রকাশ্য সরকারি তথ্য অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব পালনের তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে।