নাসিরের স্ত্রী তামিমার সাবেক স্বামী আবারও মেয়ের অধিকার নিয়ে মামলা করলে কী হবে?
ক্রিকেটার নাসির হোসেনের স্ত্রী তামিমা সুলতানাকে ঘিরে পুরোনো আইনি বিরোধ আবারও আলোচনায় এসেছে। তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসানের করা মামলায় চলতি বছরের ১০ জুন ঢাকার একটি আদালত নাসির ও তামিমাকে খালাস দেওয়ার পর নতুন করে বিষয়টি সামনে এসেছে। রায়ের পর রাকিব অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
রাকিব ও তামিমার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০১১ সালে তাদের বিয়ে হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে তামিমার সঙ্গে নাসির হোসেনের বিয়েকে কেন্দ্র করে রাকিব আইনি অভিযোগ করেন। তার দাবি ছিল, তামিমার সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই নাসিরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে মামলা চলে।
মামলার বিচার চলাকালে তামিমা আদালতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি দাবি করেন, নাসিরের সঙ্গে তার বিয়ে বৈধ এবং সাবেক স্বামীর অভিযোগ ভিত্তিহীন। ২০২৬ সালের এপ্রিলে আদালতে জেরার সময়ও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, ১০ জুন রায় ঘোষণার সময় আদালত তামিমার আগের বিয়ে বিচ্ছেদের বিষয়ে উপস্থাপিত নথি বিবেচনা করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে তামিমা তালাকের ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাকিবকে তালাক দিয়েছিলেন এবং সেই তালাক পরবর্তীতে নিবন্ধিত হয়েছিল। এ কারণে আদালত নাসিরের সঙ্গে তার পরবর্তী বিয়েতে আইনগত বাধা দেখেনি এবং দুজনকেই খালাস দেয়।
রায়ের পর অবশ্য রাকিব ও তার আইনজীবী এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন। ফলে এই আইনি বিরোধ এখানেই শেষ হয়ে গেছে কি না, সেটি নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ওপর।
এদিকে তামিমা ও রাকিবের মেয়েকে ঘিরেও অতীতে আদালতে আইনি বিষয় উঠেছিল। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার নথিতে দেখা যায়, মেয়ের অভিভাবকত্ব ও পিতৃত্ব নিয়ে বিরোধের বিষয় আদালতের সামনে এসেছিল এবং এক পর্যায়ে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদনও করা হয়েছিল।
তবে ‘রাকিব আবার মেয়ের অধিকার নিয়ে নতুন মামলা করেছেন’—এমন কোনো নতুন মামলার নির্ভরযোগ্য তথ্য বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বিষয়টি নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে প্রচার করার আগে নতুন মামলার নথি বা আদালতের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
নাসির-তামিমার পুরোনো মামলা খালাসের পর রাকিব উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন—এটাই বর্তমানে নিশ্চিত তথ্য। মেয়ের অধিকার নিয়ে নতুন মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।