নিজ এলাকায় যেভাবে এনআইডি সংশোধন করবেন, জানাল ইসি
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডিতে জন্মতারিখ কিংবা বয়সের তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য এতদিন অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকতে হতো। এতে আবেদনকারীদের সময় ও ভোগান্তি—দুটিই বাড়ত। এবার সেই প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতে এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নিজ এলাকার মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারাই নিষ্পত্তি করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের ১২তম সভা শেষে ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।
কোন তথ্য সংশোধন করা যাবে?
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মূলত জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে এই বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। আবেদনকারীর জন্মতারিখ যদি জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের পাবলিক পরীক্ষার সনদে সঠিকভাবে উল্লেখ থাকে, তাহলে সেই সনদের ভিত্তিতে আবেদন যাচাই-বাছাই করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
অর্থাৎ, শুধু নিজের ইচ্ছামতো বয়স পরিবর্তনের সুযোগ নয়; সংশোধনের পক্ষে গ্রহণযোগ্য ও যাচাইযোগ্য প্রমাণপত্র থাকতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাগত সনদে থাকা জন্মতারিখকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
এনআইডির তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত নির্দেশনায় এনআইডি বা সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ফরম ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
সাধারণভাবে প্রক্রিয়াটি হবে—
১. প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র প্রস্তুত করুন
জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের গ্রহণযোগ্য সনদ প্রয়োজন হতে পারে। আপনার ক্ষেত্রে কোন সনদ প্রযোজ্য হবে, তা নির্বাচন অফিসে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
২. সংশোধনের আবেদন করুন
নির্ধারিত নিয়মে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও এনআইডি সংশোধনের ফরম-২সহ প্রয়োজনীয় ফরম ও নির্দেশনা প্রকাশ করা আছে।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন
সংশোধনের কারণের পক্ষে প্রমাণপত্র দিতে হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যসহ আবেদন গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
৪. মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই
নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত যোগ্যতার শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা যাচাই করবেন। অনলাইনে সনদ যাচাই করা সম্ভব হলে সেটিও যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।
৫. যাচাই শেষে সিদ্ধান্ত
তথ্য ও কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী আবেদন নিষ্পত্তি করবেন।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
ইসির বক্তব্য অনুযায়ী, আগে জন্মতারিখ সংশোধনের অনেক আবেদন কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা থেকে নিষ্পত্তি করা হতো। ফলে আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময় বাড়ত এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজের চাপও তৈরি হতো। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট ধরনের আবেদন মাঠপর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হওয়ায় সেবা আরও দ্রুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব ধরনের এনআইডি সংশোধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানীয় পর্যায়ে করা যাবে—এমনটা বলা হয়নি। ইসির ঘোষণাটি বিশেষভাবে শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মাঠপর্যায়ে নিষ্পত্তির বিষয়ে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনেও আসছে অনলাইন সেবা
এনআইডি সেবাকে আরও সহজ করার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন ভোটার এলাকা পরিবর্তন বা ‘মাইগ্রেশন’ সেবাও পুরোপুরি অনলাইনে চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। এ জন্য নির্ধারিত ফি দেওয়ার বিধান নতুন নিয়মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া এনআইডি নবায়নের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়মে পারিবারিক তথ্য বা ‘ফ্যামিলি ট্রি’ জমা দেওয়ার বিষয়টি রাখা হয়েছে, যাতে পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করা সহজ হয়।
আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের তথ্য মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু আবেদন করলেই তথ্য পরিবর্তন হয়ে যাবে না; কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রমাণের ভিত্তিতে সংশোধনের যৌক্তিকতা যাচাই করতে হবে।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এখতিয়ার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে বর্তমান প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রযোজ্য ফি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া নিরাপদ। ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত বিধি ও সংশোধনীগুলোও তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র থাকা নাগরিকদের জন্য এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের কাজ আগের তুলনায় স্থানীয় পর্যায়ে সহজ